ভোলার বোরহানউদ্দিনে শশুরের বিরুদ্ধে পুত্রবধুকে অপহরণের চেস্টার অভিযোগ

0
224

হেলাল উদ্দিন,ভোলা নিউজ২৪ডটনেট।।ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় শশুরের বিরুদ্ধে পুত্রবধুকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। পিতার পছন্দের মেয়েকে বিয়ে না করার কারণে শুক্রবার দিবাগত রাতে ঘুমন্ত পুত্রবধুকে অন্য পুরুষের হাতে তুলে দেওয়ার সময় স্থানীয়রা উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ওই অপহৃত গৃহবধুকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে স্বামীর হাতে তুলে দিয়েছে। ওই সময় স্বামী মো. রাব্বী মুন্সি(২২) তাঁর কর্মস্থল ভোলা সদরে ছিলেন। এসব তথ্য দিয়েছে গৃহবধু ও পুলিশ। ।

ইয়াসমিনের স্বামী মো. রাব্বী মুন্সি(২২) বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের চরগাজী গ্রামের মুন্সিবাড়ির মো ফারুক মুন্সির ছেলে।


পুত্রবধু ইয়াসমিন বেগম (২০) বলেন, সে চরগাজীর শশুর বাড়িতে একটি কক্ষে রাত ৯টার দিকে আলো নিভিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ওই সময় সকল দরজা বন্ধ ছিল। সে ঘুমিয়ে পড়লে অন্ধকার ঘরের মধ্যে দুজন লোক হাত-পা ও মুখ চেপে ধরে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ঘরের মাল-সামানা পড়ে শব্দ হলে আশপাশের লোকজন জেগে ওঠে। এক পর্যায় ইয়াসমি মুখ থেকে অপহরণকারীদের হাত সরিয়ে চিৎকার করে ওঠে। বাড়ির সকলে তখন ঘরের দরজা ধাক্কা দিতে থাকে। তখন অপহরণকারীরা পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে বাড়ির লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ তাকে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
ইয়াসমিনের স্বামী মো. রাব্বী মুন্সি(২২) বলেন, তার বাবা ফারুক মুন্সি দুটি বিয়ে করেছে। দুই স্ত্রী দুইখানে থাকে। রাব্বীর মা বড়। তাঁর মায়ের খোঁজ-খবর কম নেয় না বাবা। ফারুক মুন্সি রাব্বীকে তাঁর পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করাতে চেয়েছিল। সে নিজের পছন্দমতো বিয়ে করেছে। ছেলের ওপর প্রতিশোধ নিতে রাব্বীর স্ত্রী ইয়াসমিকে অসতী বানানোর জন্য এবং হত্যার জন্য লোক ঠিক করে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। এ ঘটনায় তারা বাবা ফারুক মুন্সি ও অজ্ঞাতদের আসামী করে মামলার প্রস্ততি নিচ্ছে।
এ ঘটনায় ফারুক মুন্সি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি দুই স্ত্রীর সঙ্গে সমান আচরণ করেন। দুই স্ত্রীর জন্য দুটি বাড়ি করেছেন। কিন্তু ছেলে তার মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছে। এ ঘটনার দায় বাবার ওপর চাপাতে চাইছে। তাই স্ত্রীকে দিয়ে ফাঁদ পেতেছে। কে বা কারা পুত্রবধুর ঘরে ঢুকেছে তা তিনি জানেন না-ঘটনা আদে সত্য নয়।
বোরহানউদ্দিন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাইমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, রাত ১২টার দিকে আহত অবস্থায় পুলিশ গৃহবধুকে উদ্ধার করেছে। বোরহানউদ্দিন শহরে এনে চিকিৎসা দিয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) অভিযোগ দিতে বলেছেন। কিন্তু অভিযোগ দেয়নি।

LEAVE A REPLY