চরফ্যাশনে কিশোর-কিশোরী কাবের নেটওয়াকিং সভায়-বড়দের সাথে কিশোর-কিশোরীদের সংলাপ 

0
56
আদিল হোসেন তপু।।  কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির ল্েয নিয়ে ভোলার চরফ্যাশনে কিশোর- কিশোরী কাবের সুবিধা বঞ্চিত সদস্যদের নিয়ে নেটওয়াকিং সভা অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার চরফ্যাশন উপজেলা হল রুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চরফ্যাশন  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রুহুল আমিন।  এসময় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা মো: জামিল  হোসেন, কোস্ট ট্রাস্ট আইইসিএম প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো: মিজানুর রহমান, এপিসি দেবাশীষ মজুমদার,উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রামচন্দ্র নাথ বিশ্বাস,উপজেলা এলজিসি প্রকল্পের কো- অর্ডিনেটর মো: শরিফুল আলম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন-কোস্ট ট্রাস্টের আইইসিএম প্রকল্পের উপজেলা মনিটরিং অফিসার জিএম মনিরুজ্জামান, সমাজকর্মী সঞ্চয় কুমার প্রমুখ। সভায় বিভিন্ন কিশোর-কিশোরী  কাবের প্রায় ৬০ জন অংশ গ্রহন করে। সভায় কাবের সদস্যরা তাদের বিভিন্ন সমস্য,সফলতা,প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন বড়দের কাছে।  অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন,বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক ও আইনগত অপরাধ। বাল্য বিয়ের ফলে  মেয়ে শিশুর জন্য অধিকার লঙ্ঘন হয়। প্রত্যেক কিশোর-কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক পরিপূর্ণতা লাভের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন। কিন্তুু অভিভাবকরা বাল্য বিয়ে কুফল সম্পর্কে সচেতন না থাকায়  কন্যা শিশুদের অল্প বয়সে বিয়ে দিচ্ছে। ফলে মেয়েরা অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে  স্কুল থেকে ঝড়ে পরে। তাই মেয়ে শিশুদের সুরক্ষার জন্য মেয়েদের ১৮ বছর ও  ছেলেদের ২১ বছরের আগে বিয়ে নয়। কিশোরীদের  ভালোর জন্য  বাল্য বিবাহ বন্ধ করা করতে কিশোরীদের গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করতে হবে বলে জানান। প্রয়োজনে সরকারের হেল্প লাইন নম্বর এর সাহায্য নেওয়ার কথা বলেন। এর মাধ্যমে বাল্য বিয়ে সহজেই রোধ করা যাবে বলে মনে করেন তারা।
বক্তারা আরো বলেন, বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে অভিভাবক, কিশোর-কিশোরী, শিক, সুশীল সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে  কিশোর- কিশোরী কাবের সদস্যরা মিলে বাল্য বিয়ে বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এর সহায়তায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কোস্ট ট্রাস্ট এর সমন্বিত শিশুবিবাহ প্রতিরোধ কার্যক্রম (আইইসিএম) প্রকল্পের আওতায়  কিশোর-কিশোরী কাবের অংশগ্রহনে এই নেটওয়াকিং সভার আয়োজন করা হয় । যেখানে বড়দের কথা বলার সাথে সাথে কিশোর-কিশোরী কাবের সদস্যরা তাদের নানা ধরনের সমস্য,সফলতার গল্প ও আগামীদিনের  প্রয়োজনীয়তার  কথা তুলে ধরেন। পরে কিশোরী কাবের সদস্যরা নৃত্য ও গান পরিবেশন করেন।
উল্লেখ্য,২০১৫ সাল  থেকে শিশু বিবাহ প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারের  অঙ্গিকার ও কর্মসূচির  আলোকে ভোলা জেলায় ইউনিসেফের এর সহায়তায় ও কোস্ট ট্রাস্ট এর আইইসিএম প্রকল্পের মাধ্যমে  ভোলা জেলার ৪ টি উপজেলায় ৯০০ কিশোর-কিশোরী কাব রয়েছে। এই কর্মসূচীর মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের মতায়ন,সচেতনাতা বাড়ানো,তাদের অভ্যাসও আচরনগত পরিবর্তন এর জন্য প্রয়োজনীয় সেবা ও সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে কর্মসূচী অবদান রেখে চলছে।

LEAVE A REPLY