অবরুদ্ধ হয়ে আছি… মেজর হাফিজ

0
99

জাহিদুল ইসলাম দুলাল, লালমোহন প্রতিনিধি: ভোলা-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে মানুষ ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবে না বলে আশংকা করেছেন। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃষ্টি হয়নি। তিনি অবরুদ্ধ হয়ে আছেন, প্রচারে বের হতে পারছেন না বলে সোমবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানান। মেজর হাফিজ বলেন, সেনাবাহিনী ছাড়া এই দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন বসিয়ে দেয়া হয়েছে পছন্দের দলকে বিজয়ী করে দেওয়ার জন্য। তবুও জনগণ যদি ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে তাহলে ধানের শীষ জয় লাভ করবে।
নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেজর হাফিজ আরো বলেন, আওয়ামী লীগ ভালো করেই জানেন সুষ্ঠ নির্বাচন হলে কি হবে। তাই ক্ষমতায় বসে নির্বাচন দিয়েছেন। সারা পৃথিবীতে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্বাচন হয়। বাংলাদেশেই একমাত্র তার বতিক্রম। পুলিশ তাদের সাথে থাকে। সন্ত্রাসে চেয়ে গেছে বাংলাদেশ। ভোলা-৩ আসনে প্রতিপক্ষ প্রার্থী ২শত সন্ত্রাসী বিভিন্ন এলাকা থেকে নিয়ে এসেছে।
লালমোহন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ভরপুর। আমি গত ১২ তারিখে লঞ্চে উঠবো, ব্যাগ নিয়ে রওয়ানা হয়েছি। গুলিস্তান এসে শুনলাম লঞ্চ ভাংচুর করে নদীর মাঝে নিয়ে গেছে। ২দিন পর আবার পুলিশ প্রটোকলে এলাকায় আসলাম। আমাকে ৪০ হাজার নেতা-কর্মী, সমর্থক লঞ্চঘাট থেকে অভ্যর্থনা জানায়। আমাকে আনার জন্য গাড়িটিও ভেঙ্গে দিয়েছে। উল্টো পুলিশ গাড়ির ড্রাইভারসহ আমার দুই ভাতিজাকে থানায় নিয়ে যায়। লালমোহন আসার পর কর্মীরা বাড়ি ফেরার সময় পথের মধ্যে কোপানো হয়। রায়চাঁদ, দালাল বাজার আমার সমর্থকের দোকান ভাংচুর করে। মঙ্গলসিকদার চৌকিদার বাড়িতে মহিলাদের নির্যাতন করা হয়েছে। তজুমদ্দিনে খাসেরহাট বাজারে দোকান ভাংচুর করা হয়েছে। কোড়ালমারার সিকদার বাড়ির সবগুলো ঘর ভেঙ্গে দিয়েছে।
তিনি বলেন, ২০১০ সালের উপনির্বাচন থেকে লালমোহনে সন্ত্রাস শুরু হয়েছে। ওই নির্বাচনে বিএনপির ৩৫০ নেতা-কর্মীকে রামদা দিয়ে কুপিয়েছে। তারা হাসপাতালে পর্যন্ত যেতে পারেনি। আমার বাড়িই হাসপাতাল হয়েছে। ঢাকা থেকে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এসে ব্যাপক ভোট ডাকাতি করেছে। ওই সময় যিনি এমপি হয়েছেন তিনি এলাকার ভোটারও ছিলেন না। ২০১৪ সালে বিনা ভোটে এমপি হয়। এবারো চায় বিএনপি নির্বাচন না করুক।
এখানে নির্বাচন করার কোন পরিবেশ নাই। প্রতিপক্ষ আচরন বিধি লঙ্গন করে লালমোহন পৌরসভায় ২৮ টি নির্বাচনি আফিস খুলছে। ইউনিয়নগুলোতে ও একাধিক নির্বাচনী অফিস খুলে প্রচারনা চালাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন তার নেতা কর্মীদের নামে মিথ্যা মাামলা দেয়া হচ্ছে। গতকাল রাতে কর্তারহাট থেকে তার কর্মী লতিফ কে পুলিশ ধরে নিয়ে চালান করে দিয়েছে। তজুমদ্দিনে ও একই ঘটনা ঘটছে। জনগন ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবে কিনা আমার সন্দেহ হচ্ছে। যদি ৩০ ভাগ নির্বাচন সুষ্ঠ হয় তাহলে আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হব।

LEAVE A REPLY